Skip to main content

শিশুদের ওবিসিটি বা স্হূলতা নিয়ে মায়েদের ধারণা সম্পর্কিত গবেষণার ফল প্রকাশিত হল


জেলা শহর লেভেলে প্রায় ৬৫% মা শিশুদের স্থূলতাকে কোন সমস্যা মনে করেন না বা এ সম্পর্কে কোন ধারণা নেই। মা'দের ধারণা অনুযায়ী মাত্র ৩% শিশু মোটা বা মোটা টাইপের কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে জামালপুর শহরে এই বয়স গ্রুপে ১৪% শিশু স্থূল (Overweight/obese)। প্রায় ৭০% মায়েরা জানেন না শিশুর স্থূলতার কারণে ভবিষ্যতে কী কী অসুখ শরীরে বাসা বাঁধতে পারে।

ঢাকা, জানুয়ারি ১২, ২০১৯:  শিশুদের ওবিসিটি বা স্হূলতা যে একটি স্বাস্থ্য সমস্যা সেটি নিয়ে আমাদের দেশে মায়েদের ধারণা খুবই কম। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে ৬৫% মা মনে করেন শিশুদের স্হূলতা কোন স্বাস্থ্যগত সমস্যা নয়। রিপোর্টটি ইন্টারন্যশনাল জার্নাল অফ এনভারমেন্টাল রিসার্চ এন্ড পাবলিক হেলথ নামক আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। 

বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে জামালপুর শহরে পরিচালিত একটি জরিপের ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গিয়েছে। জামালপুর শহরের ১২টি স্কুলে স্ট্র্যাটিফাইড স্যামপ্লিং করে সেকুল্যার স্কুল এবং নুরানী মাদ্রাসার ৪ থেকে ৭ বছর বয়সী শিশু এবং তাদের মায়েদের এই গবেষণায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়। মোট ৬৫০ জন মা এবং তাদের বাচ্চারা এতে অংশগ্রহণ করেন।

এই গবেষণার প্রধান প্রশ্ন ছিল- মায়েরা শিশুদের স্থূলতাকে স্বাস্হ্য সমস্যা হিসেবে মনে করেন কি না। মা'দের থেকে জানতে চাওয়া হয়েছিল নিজের সন্তানের স্বাস্থ্য সম্পর্কে তাদের ধারণা কী (মোটা, পাতলা বা স্বাভাবিক)? এভাবে মায়েদের পারসেপশন জানা হয় এবং শিশুদের বিএমআই (BMI) থেকে তাদের প্রকৃত স্হূলতার পরিমাপ করা হয়।

গবেষণার উল্লেখযোগ্য ফলাফলগুলো হচ্ছে--

১। জেলা শহর লেভেলে প্রায় ৬৫% মা শিশুদের স্থূলতাকে কোন সমস্যা মনে করেন না বা এ সম্পর্কে কোন ধারনা নেই
২। মা'দের ধারণা অনুযায়ী মাত্র ৩% শিশু মোটা বা মোটা টাইপের কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে জামালপুর শহরে এই বয়স গ্রুপে ১৪% শিশু স্থূল (Overweight/obese)
৩। প্রায় ৭০% মায়েরা জানেন না শিশুর স্থূলতার কারণে ভবিষ্যতে কী কী অসুখ শরীরে বাসা বাধতে পারে
৪। ফাস্টফুড ও কোমল পানীয় খেলে যে শিশুরা মুটিয়ে যায় সে সম্পর্কে কোন ধারণা নেই প্রায় ৭০% মায়ের
৫। জামালপুর শহরের শিশুদের প্রায় ৭০% স্ক্রিন টাইম (মোবাইল, টিভি, কম্পিউটার ইত্যাদি) গাইডলাইন অনুসরণ করে না মা'রা জানেন না যে এ কারণে শিশুরা মুটিয়ে যেতে পারে।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট

উন্নত বিশ্বে ওবিসিটি বা স্থূলতা বা মুটিয়ে যাওয়াকে একটি স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা হয়। বিশেষ করে অনেকগুলো ক্রনিক ডিজিজ বা দূরারোগ্য ব্যাধির অন্যতম রিস্ক ফ্যাক্টর বা ঝুঁকির মধ্যে ওবিসিটি একটি। বড়দের পাশাপাশি শিশুরাও ওবিসিটিতে আক্রান্ত হয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে ছোটবেলায় শিশুরা মোটা হয়ে গেলে তাদের প্রায় ৭০% সেই স্থূলত্ব বয়স্ক অবস্থা পর্যন্ত ধরে রাখে। নানা কারণে শিশুরা স্হূলত্ব বরণ করতে পারে। অন্যতম কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে কায়িক বা ফিজিক্যাল অ্যাকটিভিটি কমে যাওয়া, অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, এবং তথ্য প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের সাথে লাইফ স্টাইলে পরিবর্তন হওয়া।

বাংলাদেশে ওবিসিটির বর্তমানে কী অবস্থা সে সম্পর্কে তেমন গবেষণা হয়নি। ওবিসিটি বা স্থূলতা আসলেই কোন স্বাস্থ্য সমস্যা কিনা সে সম্পর্কে আমাদের ধারণা কেমন তার নির্ভরযোগ্য কোন পরিসংখ্যান নেই।

ওবিসিটি এমন একটি স্বাস্থ্যগত ব্যাপার যেটি নিয়ে আমাদের নানা ধরনের অভিমত রয়েছে। অনেকে মনে করেন ওবিসিটি শুধু খাদ্যাভ্যাসের কারণেই হয়। অর্থাৎ বেশি খেলেই মানুষ ওবিস বা মুটিয়ে যায়। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে যে খাদ্যাভ্যাস স্হূলতার একটি কারণ হলেও এটিই একমাত্র কারণ নয়।

ধারণা করা হয় ওবিসিটির কারণ মনোজাগতিক, পারিপার্শ্বিক, সামাজিক, এবং ক্ষেত্র বিশেষে অর্থনৈতিক। কিন্তু যে কারণেই হোক না কেন সেটি গবেষণার মাধ্যমে তুলে আনতে গেলে প্রথমে আমাদের জানতে হবে ওবিসিটি সম্পর্কে মানুষের ধারণা কী। কোন সমস্যা সমাধান করার প্রথম ধাপ হচ্ছে সেটিকে সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা।

প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ

বাংলাদেশে শিশুদের ওবিসিটি নিয়ে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো গবেষণা হয়নি। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সাথে উন্নয়নশীল দেশে ওবেসিটি বেড়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ায় শিশুদের পুষ্টিহীনতা দিন দিন কমে যাচ্ছে; অন্যদিকে ওবিসিটি পাল্লা দিয়ে বেড়ে যাচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে এটি বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যগত সমস্যার অন্যতম একটি হতে যাচ্ছে।

এই স্টাডির ফাইন্ডিংস স্থূলতা প্রতিরোধের উপায় বের করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কোন কিছুকে সমস্যা হিসেবে না ভাবলে সেটি প্রতিরোধ প্রায় অসম্ভব। তাই ওবিসিটি প্রতিরোধে মা ভিত্তিক এডুকেশনাল প্রোগ্রাম দেশের জন্য প্রথম করণীয় কাজ হবে।

এই গবেষণার জন্য আমরা জামালপুরবাসীর কাছে কৃতজ্ঞ। কমিউনিটির সাপোর্ট ছিল বিধায় এই ধরণেের গবেষণা করা সম্ভব হয়েছে।

এই স্টাডির প্রধান গবেষক ডঃ সরোয়ার হোসেন অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব ওলংগং এর সাথে কলাবোরেশন করে গবেষণাটি সম্পন্ন করেন। সেজন্য ওলংগং ইউনিভার্সিটির আর্লি স্টার্ট প্রোগ্রাম কে আমরা ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

Link to the original article

Comments

Popular posts from this blog

থ্যালাসেমিয়া ন্যাশনাল ইস্যু সৃষ্টিতে BRFএর রিসার্চ ইফোর্ট কী ভাবে পার্ট হলো?

Posting on behalf of Dr. Sorowar Hossain সিঙ্গাপুর ১০+ বছর রিসার্চ লাইফ কাটিয়ে দেশে ফিরে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে জয়েন করি। যেহেতু সিংগাপুরের ল্যাব রিলেটেড স্কিল দেশে এপ্লাই করার স্কোপ নেই, তাই শুরু থেকে পাবলিক হেলথ ফিল্ডে ফোকাস করি। দেশের হেলথ সেক্টর অজানা, অপরিচিত ছিল। ইমেলে randomly যোগাযোগ করে বারডেমের ড তানভীরা সুলতানা (Tanvira Afroze Sultana) আপার সাথে যোগাযোগ হয়। আমরা দুজনে ব্লাড ক্যান্সার নিয়ে কাজ করি। ডাটা এনালাইসিস করতে গিয়ে দেখা গেল এনাফ ডাটা নেই। অন্য কোন প্রতিষ্ঠানকে জড়িত করা যায় কিনা তা তানভীরা আপাকে জানালাম। তিনি হেমালোজিস্টদের একটি মিটিং এ নিয়ে গেলেন। সেই মিটিং-এ প্রফেসর মনজুর মোরশেদ স্যারের সাথে পরিচয় হলো। অবশেষে ব্লাড ক্যান্সার সংক্রান্ত ৫০০০ কেইস এনালাইসিস করে প্রথম পাবলিকেশন হলো যেখানে ১৪টি প্রতিষ্ঠান জড়িত ছিল! তখনও থ্যালাসেমিয়ার সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। তানভীরা আপা মাঝে মাঝে থালাসেমিয়া ইস্যু নিয়ে আপসোস করতেন। কিন্তু আমি এটির সিরিয়াসনেস সম্পর্কে জানতাম না। আমাদের ব্লাড ক্যান্সার পেপারটি পাবলিশ হওয়ার পর নেটওয়ার্ক বেড়ে গেল। প্রফেসর মোরশেদ স্যার এবং কিছু হেমাটোলজ

চিকুনগুনিয়া রিসার্চঃ সহযোগী রিসার্চারদের (Research Assistant) সিলেকশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন

চিকুনগুনিয়া রিসার্চ প্রজেক্টে সহযোগী রিসার্চার (Research Assistant) পজিশনের জন্য স্ক্রিনিং শেষে সিলেকশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। যারা নির্বাচিত হয়েছেন তাদেরকে ইমেলে জানানো হয়েছে। দেশের ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অত্যন্ত উতসাহী স্টুডেন্টরা (৬০+) চিকুনগুনিয়া প্রজেক্টে কন্ট্রিবিউট করার উদ্দেশ্যে এপ্লিকেশন করে। এর মধ্যে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্টরা সব থেকে বেশী সিভি জমা দেয়। আমি সেখানে শিক্ষকতা করতাম এবং রিসার্চের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ক্লাসে বেশ আলোচনা করতাম। এজন্য ব্যক্তিগতভাবে আমি আনন্দিত। বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় আইইউবি থেকেও ভাল রেসপন্স পেয়েছি। এদের বেশ কয়েকজন সিভি জমা না দিলেও ব্যক্তিগতভাবে আমাদের দেখা করে টিম বানিয়েছে। দেশের প্রয়োজনে ইয়াং স্টুডেন্টদের কন্ট্রিবিউট করার প্রচন্ড আগ্রহ আমাদেরকে আশা জাগায়, অনুপ্রাণিত করে। এই স্টুডেন্টদের মধ্য থেকে সম্ভবত কয়েকজন ভবিষ্যতে ভালমানের বিজ্ঞানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবেন।তারা যেন সেই লেভেলে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে সেজন্য আমরা মেন্টর হিসেবে তাদের জন্য কাজ করে যাবো। নির্বাচিতদের জন্য অভিনন্দন।

চিকুনগুনিয়া রিসার্চ টিম

চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হওয়া অবস্থায় হঠাৎ করে এই প্রজেক্টটির উদ্যোগ নেয়া হয়। ব্যথায় কুঁকড়ে যাওয়া অবস্থায় ফেইসবুক এবং ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে রিসার্চারদের স্বেচ্ছাসেবী টিম গঠন করা হয়। প্রাতিষ্ঠানিক এবং লজিস্টিক সাপোর্ট দিতে এগিয়ে আসে বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ ফাউন্ডেশন। আমাদের রিসার্চ ফোকাস হচ্ছে চিকুনগুনিয়া রোগ-পরবর্তী ম্যানেজমেন্ট। চিকুনগুনিয়া রিসার্চ টিমে অংশ নিচ্ছেন দেশে এবং বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশী ডাক্তার এবং গবেষকবৃন্দ। কোর রিসার্চ টিমের সদস্যরা হচ্ছেন - Principal Investigators Mohammad Sorowar Hossain PhD, Adjunct Scientist, Biomedical Research Foundation, Bangladesh and Assistant Professor, School of Environmental Science, Independent University, Bangladesh (IUB) Enayetur Raheem PhD, Adjunct Scientist, Biomedical Research Foundation, Bangladesh and Data Scientist at Carolinas HealthCare System, North Carolina, USA Co-Principal Investigators Salequl Islam PhD, Associate Professor, Dept of Microbiology, Jahangirnagar University and Adjunct Scientist, Biomedical Resear